আটলান্টা

পানির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আটলান্টায় আলোচনা

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বের কোনো মানুষ যেন পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। পানিসম্পদ শুধু তৃতীয় বিশ্বের সমস্যা নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও এই সমস্যা রয়েছে। প্রত্যেক দেশের প্রত্যেক মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করাই আজকের বিশ্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

আন্তর্জাতিক পানি বিশেষজ্ঞ ফারহানা সুলতানা এ কথা বলেছেন। গত সপ্তাহের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সেবা লাইব্রেরির উদ্যোগে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে পানি, প্রকৃতি ও জলবায়ু নিয়ে মতামত দেন বিশিষ্টজনেরা।

প্রবাসী সেলিনা মলি প্রথম আলোকে জানান, ওই সমাবেশে পানিসম্পদ নিয়ে বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে ফারহানা সুলতানা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। নিউইয়র্কের সিরাকিউস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারহানা হক আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন বিশেষজ্ঞ। তিনি পানিসম্পদ, পরিবেশ, জলবায়ু এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে গবেষণা করছেন।

আটলান্টায় প্রবাসীদের প্রিয় সেবা লাইব্রেরি। সংস্থাটির আয়োজিত প্রবাসী সুধী সমাবেশে ফারহানা হক আরও বলেন, পৃথিবীর ৭০ ভাগ পানিবেষ্টিত। এর মধ্যে মাত্র আড়াই শতাংশ মানুষের ব্যবহার উপযোগী। এর মধ্যে আবার পানযোগ্য পানির আনুপাতিক হার অনেক কম। মানুষের জীবনধারণের জন্য পানযোগ্য পানিকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। শিল্পোন্নত দেশও পানি নিয়ে সমস্যাকে এড়িয়ে যেতে পারছে না।

দক্ষিণ এশিয়ার পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ফারহানা হক আরও বলেন, ফারাক্কা বা অন্যান্য বাঁধ নির্মাণ করে ভারত শুধু বাংলাদেশের মানুষকেই বঞ্চিত করছে না। ভারতের নিজেদের সীমানার মানুষের ওপরও এর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। পানি নিয়ে চীনের সঙ্গেও ভারতের বৈরিতা রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় জনগণের স্বার্থে রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে তিনি আহ্বান জানান।

ফারহানা হক বাংলাদেশে পানযোগ্য পানি ব্যবস্থাপনায় নলকূপের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, নলকূপ বসানোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এখন বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্লাস্টিক বোতলে পানির বাণিজ্যকরণ এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

পানি নিয়ে বিশ্ববাণিজ্যের শক্তিধররা সক্রিয় হয়ে উঠেছে মন্তব্য করে ফারহানা হক আরও বলেন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে জমি অধিগ্রহণ করে জলাধার সংরক্ষণ করছে। এসব দেশে একসময় পানযোগ্য পানির মজুত কমে আসবে। সংকট তৈরি হবে।

পানি সমস্যা কোনো দেশ বা আঞ্চলিক সমস্যা নয় বলে উল্লেখ করেন ফারহানা হক। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পানি ব্যবস্থাপনা এবং এর ন্যায্য বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যই প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সেবা লাইব্রেরির পক্ষ থেকে রশীদ মোহাম্মদও সেখানে বক্তব্য দেন।

আপনার মন্তব্য জানান